Religious View লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Religious View লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Night Time Prayer for Muslims - রাত্রিকালীন সময়ে কিছু বিশেষ ইবাদত

Night Time Prayer for Muslims - রাত্রিকালীন সময়ে কিছু বিশেষ ইবাদত

 রাত্রিকালীন সময়ে কিছু বিশেষ ইবাদত

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থার নাম। তাই এতে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের দিকনির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে। আমাদের একটু সতর্কতাই পারে দৈনন্দিন কাজগুলোকে নেক আমলে পরিণত করতে। এরই ধারাবাহিকতায় রাত্রিকালীন কিছু সুন্নাত, আদব তুলে ধরার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
সন্ধ্যার আমল : মাগরিবের আজানের সময় হলেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা ও ছোট বাচ্চাদের বাইরে যেতে বারণ করা উচিত। কেননা তখন জিন জাতি ঘোরাফেরা করে। (সিহাহ সিত্তাহ)
এমনিভাবে রাতে এশার নামাজ পড়েই শুয়ে পড়া সুন্নাত। তবে এর আগে কিছু এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগেও কিছু আমল রয়েছে। যেমন—ঘুমানোর আগে স্ত্রী-পরিজনের উপদেশমূলক ঘটনাবলি ও শরিয়তসম্মত কৌতুকপূর্ণ কথাবার্তা শোনানো। (শামায়েলে তিরমিজি : পৃ. ১৭) আর অহেতুক কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা চাই। কেননা এর ফলে সকালে নামাজ কাজা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

(তিরমিজি : ১/৪২) রাতে বিসমিল্লাহ বলে দরজা বন্ধ করা এবং বিসমিল্লাহ বলেই হুক লাগানো। (বুখারি : ২/৯৩১) পানির পাত্র, বালতি ইত্যাদি বিসমিল্লাহ বলে ঢেকে রাখা। ঢেকে রাখার কিছু না থাকলে অন্তত একখণ্ড লাকড়ি হলেও ওপরে দিয়ে রাখা। (বুখারি : ২/৯৩১) এরপর বিসমিল্লাহ বলে বাতি নিভিয়ে দেবে। (বুখারি : ২/৯৩১) যেসব বস্তু থেকে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকে, সেগুলোকে বিসমিল্লাহ বলে নিভিয়ে ফেলবে। (বুখারি : ২/৯৩১) যেমন—গ্যাসের চুলা ইত্যাদি। তা ছাড়া এর দ্বারা বিপুল পরিমাণ গ্যাসও অপচয় হয়, যা দেশ ও জাতির কারো জন্যই কল্যাণকর নয়।
ঘুমানোর সময়ের কিছু আমল : অজুর সঙ্গে ঘুমানো। (আবু দাউদ : ১/৬৮৭) মিসওয়াক করে ঘুমানো। (মিশকাত ১/৪৪) চুল-দাড়ি আঁচড়ানো। (মিশকাত : ২/৩৮৪) উভয় চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানো। (উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম ১১৫) ঘুমানোর আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। (মিশকাত : ১/২০৮) শোয়ার আগে আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা, কেননা রাসুল (সা.) শোয়ার  আগে লুঙ্গি পরিধান করতেন এবং জামা খুলে ঝুলিয়ে রাখতেন, তারপর আরাম করার আগে বিছানা ঝেড়ে নিতেন। তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমানো। (নাসায়ি : ১/১৯৯) তাহাজ্জুদের জন্য জায়নামাজ শিয়রে রেখে ঘুমানো উত্তম। (আল উসওয়াহ : ৫৫৬)

স্ট্যাডি পয়েন্টনিদ্রা যাওয়ার আগে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া এবং বিছানায় শোয়ার পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। বুখারি : (২/৭৫৩) সুরায়ে ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ঘুমাবে। (বুখারি : ২/৭৫০) সম্ভব হলে কোরআনে কারিমের ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করে ঘুমানো। (সুনানে দারেমি : ২/৩৪১) অন্য বর্ণনা মতে, কমপক্ষে কোরআনের ১০টি আয়াত তেলাওয়াত করার কথা বলা হয়েছে। (দারেমি : ২/৩৪০) মাগরিবের পর সুরায়ে ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করা এবং ফজরের পর সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা। (দারেমি : ২/৩৩৬) ঘুমানোর আগে তিনবার ইস্তিগফার অর্থাৎ ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুআল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি’ পড়া। (মিশকাত : ১/২২১) বিছানায় শুয়ে এই দোয়া পড়া ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়াআহ ইয়া’। (বুখারি ২/৯৩৬)

সুবহে সাদেকের আগে ঘুম ভাঙলে উঠে তাহাজ্জুদ পড়া। (১/১০৯) রাতে যদি স্বপ্নদোষ কিংবা স্ত্রী সহবাস হয়ে থাকে, তবে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করে নেওয়া উত্তম, অন্যথায় কমপক্ষে সুবহে সাদেকের আগে গোসল করে নিতে হবে। এর বেশি বিলম্ব করা উচিত নয়। (আবু দাউদ : ১/২৯)

রাতের আদবসমূহে এটিও আছে যে একাধিক ব্যক্তি একই স্থানে ঘুমালে রাতে কোনো কারণে জাগ্রত হলে বাতি জ্বালানো ইত্যাদি বিষয়ে সতর্ক হওয়া, যাতে অন্যের ঘুমের ক্ষতি না হয়। 

ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময়ের সুন্নাত : খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা উচিত। উঠেই সর্বপ্রথম উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল ও চক্ষুদ্বয় মর্দন করা, যাতে ঘুমের রেশ কেটে যায়। অতঃপর সুরায়ে আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করা। (নাসাই : ১ /২) তারপর এই দোয়া পাঠ করবে : ‘আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি আহয়ানা বা’দামা আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর। ’ (বুখারি : ২/৯৩৮) এরপর নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক করা সুন্নাত। (আবু দাউদ : ১/৮) তারপর তিনবার উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করবে। (তিরমিজি : ১/১৩)
নামাজে যে আটটি ভূল আমরা কম-বেশি সবাই করে থাকি

নামাজে যে আটটি ভূল আমরা কম-বেশি সবাই করে থাকি

নামাজে যে আটটি ভূল আমরা কম-বেশি সবাই করে থাকি




নামাজ মুসলমানদের উপর ফরয করা হয়েছে। তাই নামাজে যাতে ভুল না হয় সেজন্য অধিকাংশ মুসলমানই খুব যত্ন ও সতর্কতার সাথে নামাজ আদায় করে থাকেন। তবে অনেকেই নামাজ আদায় করা অবস্থায় কিছু ভুল করে থাকে। নামাজ আদায় করা অবস্থায় মূলত অনেকেই ৮টি ভুল করে থাকে। ভুলগুলো
হলো-


 
১। তাড়াহুড়া করে অজু করা:

অজুর ফরজ চারটি। মুখমন্ডল ধৌত করা, উভয় হাত কনুইসহ ধোঁয়া, মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা এবং উভয় পা টাখনুসহ ধোয়া। এগুলো সঠিকভাবে আদায় করতে হবে। হাত-পা, মুখমন্ডলের নির্দিষ্ট স্থানে পানি পৌঁছাতে হবে। কোনো জায়গা শুকনো থাকলে অজু হবে না। তাই তাড়াহুড়া করে অজু না করা ভালো। অজু শেষে কালেমা শাহাদাত পড়া যেতে পারে। হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অজু শেষে কালেমা শাহাদাত পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়। সে ইচ্ছা করলে এর যে কোনো দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করতে পারবে।’ -মুসলিম শরিফ


২। নামাজের জন্য দৌঁড়ে যাওয়া:

অনেকেই নামাজের জন্য মসজিদে দৌঁড়ে যান। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্রুত হাঁটা দৌঁড়ের কাছাকাছি বা দৌঁড় দিয়েও অনেকে নামাজে পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে কাতারে দাঁড়িয়ে যান। এই হাঁপানো অবস্থাতেই এক রাকাতের মতো চলে যায়। এটা আল্লাহর রাসূল (সা.) পছন্দ করেননি। তিনি নিষেধ করেছেন। আপনি হয় সময় নিয়ে নামাজ পড়তে যাবেন অথবা ধিরস্থির ও শান্তভাবে হেঁটে গিয়ে যতটুকু জামাতে শরিক হতে পারেন হবেন এবং বাকি নামাজ নিজে শেষ করবেন। 

হজরত আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ পড়ছিলাম, নামাজরত অবস্থায় তিনি লোকের ছুটাছুটির শব্দ অনুভব করলেন। নামাজা শেষে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি করছিলে? তারা আরজ করল, ‘আমরা নামাজের জন্য তাড়াতাড়ি আসছিলাম। আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, এরূপ কখনো করো না। শান্তিশৃঙ্খলা ও ধীরস্থিরভাবে নামাজের জন্য আসবে, তাতে যে কয় রাকাত ইমামের সঙ্গে পাবে পড়ে নেবে, আর যা ছুটে যায় তা ইমামের নামাজের পর পুরা করে নেবে।’ -বোখারি শরীফ, খ–১, হাদিস নম্বর- ৩৮৭
এই হাদিসে রাসূল (সা.) নামাজে আসার এবং নামাজে শামিল হওয়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম বলে দিয়েছেন যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে ধিরস্থিরভাবে হেঁটে মসজিদে আসতে হবে, কোনো তাড়াহুড়া করা যাবে না।


৩। ফজরের সুন্নতে তাড়াহুড়া করা:

ফজরের নামাজের জামাতে অংশ নেয়ার জন্য ফজরের ফরজের আগের সুন্নত নামাজ সংক্ষিপ্তভাবে শেষ করে জামাতে ইমামের সঙ্গে দাঁড়ানোর চিত্র হরহামেশাই দেখা যায়। এমন অযাচিত তাড়াহুড়া নিষেধ, এমন অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে হাদিসে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং সেটাই মান্য। সেই নির্দেশনা হলো, যদি কেউ ফজরের জামাতের আগে মসজিদে যেতে পারেন তাহলে প্রথমে সুন্নত দুই রাকাত পড়ে জামাতের জন্য অপেক্ষা করবেন। আর যদি দেরি হয়ে যায় এবং জামাত শুরু হয়ে যায় তাহলে প্রথমে মসজিদে গিয়ে ইমামের সঙ্গে জামাতে শামিল হতে হবে এবং জামাতের পর বাকি নামাজ (যদি থাকে) শেষ করতে হবে। থাকল ছুটে যাওয়া সুন্নত। এবার আপনি অপেক্ষা করবেন সূর্য উদয়ের জন্য এবং সূর্য উদয়ের পর নামাজের নিষিদ্ধ সময় (সাধারণত সূর্য উদয়ের পর ২০মিনিট) পার হওয়ার পর আপনি ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করবেন। মধ্যবর্তী যে সময় সে সময় আপনি হয় মসজিদে বসে অপেক্ষা করতে পারেন অথবা ঘরেও ফিরে আসতে পারেন এবং সময় হওয়ার পরই আপনি ফজরের সুন্নত আদায় করে নেবেন। এটাই আল্লাহর রাসূল (সা.) নির্দেশিত নিয়ম।


৪। মানুষ ডিঙিয়ে সামনের কাতারে যাওয়া:

সামনের কাতারে নামাজ পড়লে সওয়াব বেশি। হয়তো এ কারণে শুক্রবার কিংবা রমজানে তারাবির নামাজে এসে একদল মানুষ চাপাচাপি করে সামনে গিয়ে বসে। জায়গা না থাকা সত্ত্বেও অনেকটা আরেকজনের গায়ের ওপর বসে পড়ে। এতে আরেক মুসল্লির কষ্ট হয়। এটা ইসলামসম্মত নয়। কারণ এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে কষ্ট দিতে পারে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান ওই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মোমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ নিজেদের জীবন ও ধনসম্পদের ব্যাপারে নিরাপদ এবং নির্বিঘœ মনে করে।’ -তিরমিজি ও নাসায়ি


৫। কাতারে জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখা:

অনেকে আবার অনেক জায়গা নিয়ে নামাজে দাঁড়ান। একটু চেপে যদি আরেক মুসলমান ভাইকে দাঁড়ানোর জায়গা দেয়া যায়, তবে সেটা ভালো নয় কি? মসজিদ আল্লাহর ঘর। এখানে সবার অধিকার সমান। মুরব্বি দোহাই দিয়ে সামনের কাতারে জায়গা রাখা ঠিক নয়। জায়নামাজ বিছানো কিন্তু লোক নেই। জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, অমুক সাহেব জায়গা রেখে গেছেন। এটা ঠিক না। এমন কাজ খুবই খারাপ।


৬। তাকবিরে তাহরিমা না পড়ে রুকুতে যাওয়া:

প্রচলিত আরেকটি ভুল হলো, তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহ আকবার) না বলে রুকুতে চলে যাওয়া। অর্থাৎ জামাতের নামাজে ইমাম যখন রুকুতে যান, তখন অনেককে দেখা যায় যে রাকাত পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে একটি তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলতে বলতে রুকুতে চলে যান এ পদ্ধতি সঠিক নয়। কারণ যে তাকবিরটি বলতে বলতে মুসল্লি রুকুতে যাচ্ছে, সেটাকে রুকুর তাকবির বলা যায়। তাহলে তার তাকবিরে তাহরিমা তো আদায় হয়নি। অথচ তাকবিরে তাহরিমা ফরজ। অতএব ইমামকে রুকুতে পেতে হলে কয়েকটি কাজ করা জরুরি। প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে একবার আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করবে। তারপর হাত না বেঁধে সোজা ছেড়ে দিবে। অতপর আরেকটি তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলতে বলতে রুকুতে যাবে। সারকথা এই যে, এখানে তাকবির দু’টি। প্রথমটি তাকবিরে তাহরিমা, যা নামাজের প্রথম কাজ। এই তাকবির না বললে নামাজ হবে না। আর দ্বিতীয়টি রুকুর তাকবির। এই তাকবির বলা সুন্নত। কেউ যদি রুকুতে ইমামের সাথে শামিল হতে চায় তাহলে তার জন্য নিয়ম মাফিক এই দু’টি তাকবির আদায় করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে রুকুর তাকবির তো ছাড়া যেতে পারে, কিন্তু স্থির দাঁড়ানো অবস্থায় তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) অবশ্যই বলতে হবে। এ বিষয়ে অধিক তাড়াহুড়া বা অবহেলা করলে নামাজ শুদ্ধ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। – ফতোয়া শামি: ১/৪৪২-৪৫২, আল বাহরুর রায়েক: ২/২৭৬


৭। ছানা পড়া নিয়ে বিভ্রান্তি:

অনেকেই ভাবেন ইমামকে রুকুতে পেলে ছানা পড়তে হবে কি না- বিষয়টি নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেন। বস্তুত ছানা পড়া সুন্নত। নামাজে নিয়ত বাঁধার পর প্রথম কাজ হলো ছানা পড়া। কেউ একা পড়–ক বা জামাতে নামাজ পড়–ক, উভয় অবস্থায় ছানা পড়তে হয়। ইমাম আস্তে কেরাত পড়া অবস্থায় ইমামের সঙ্গে নিয়ত বেঁধে ছানা পড়তে পারে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আর ইমাম জোরে কেরাত পড়া অবস্থায় কেরাত শুনা ফরজ বিধায় তখন ছানা পড়া নিষেধ। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেকের যে ভুলটা হয়ে থাকে তা হলো, ইমামকে যদি রুকুতে পায় তাহলে প্রথমে তাকবির বলে হাত বাঁধে তারপর দ্রুত ছানা পড়ে রুকুতে যায়। অনেক সময় ছানা পড়তে পড়তে ইমামের রুকু শেষ হয়ে যায় ফলে ওই রাকাত ছুটে যায়। এটা ঠিক নয়। এ অবস্থায় ছানা পড়তে হবে না, হাতও বাঁধতে হবে না। নিয়ম হলো, প্রথমে দাঁড়ানো অবস্থায় দু’হাত তুলে তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলে হাত ছেড়ে দেবে, তারপর দাঁড়ানো থেকে তাকবির বলে রুকুতে যাবে। এক্ষেত্রে অনেকে আরেকটি ভুল করে থাকেন সেটা হলো, ইমাম রুকুতে চলে গেছে দেখে দ্রুত রুকুতে শরিক হয়ে রাকাত ধরা দরকার, তা না করে এ সময়ও আরবিতে উচ্চারণ করে নিয়ত পড়তে থাকে। ফলে ওই রাকাত পায় না। এটা আরও বড় ভুল। নিয়তের বিষয়ে আলেমরা বলেন, নিয়ত অর্থ সংকল্প করা, যা মনে মনে হলেই চলবে। উচ্চারণ করে নিয়ত পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। -রদ্দুল মুহতার: ১/৪৮৮


৮। কাতার পূর্ণ না করে নতুন কাতার করা:

সামনের কাতারে দাঁড়ানোর জায়গা আছে। সে জায়গায় না দাঁড়িয়ে অনেকেই নতুন কাতার শুরু করেন। ফলে কাতারের ডান কিংবা বাম দিক অপূর্ণ থাকে। মুসল্লি থাকা সত্ত্বেও কাতার পূর্ণ হয় না। এভাবে কাতার অপূর্ণ রাখা ঠিক নয়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কাতার মিলিত করে আল্লাহ তার সঙ্গে সম্পর্ক জুড়ে দেন, আর যে ব্যক্তি কাতার বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন।’ -নাসায়ি

Prayer of Salat- নামাজের খুঁটিনাটি

Prayer of Salat- নামাজের খুঁটিনাটি


আল্লাহর বিধান পালন করা তাদের দ্বারাই সম্ভব যার প্রতি রয়েছে আল্লাহ অসীম রহমত। তাঁর রহমত ব্যতিত কারো পক্ষে ইবাদাত-বন্দেগিসহ কোনো নেক আমল করাই সম্ভব নয়। ইবাদাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হচ্ছে নামাজ। যা ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। নামাজের সানা, রুকু, সিজদা ও তাশাহহুদ নিয়ে ইতিপূর্বে আলাদা আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। যার লিংক এ লিখার শেষেও থাকবে। কিভাবে নামাজ পড়তে হয় তা তুলে ধরা হলো- 

নামাজ অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ইবাদাত। তাই নামাজ সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘তোমরা সেভাবে নামায আদায় কর, যে ভাবে আমাকে নামায আদায় করতে দেখ।’ (বুখারি)

১. ওজু : নামাজের জন্য উত্তম রূপে ওজু করা। ওজু করা ফরজ। যা ব্যতিত নামাজ হবে না।

২. নামাজের স্থান : যে স্থানে নামাজ পড়বেন তা হতে হবে পবিত্র। মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ না থাকলে নামাজের জন্য পবিত্র স্থান নির্ধারণ করা।
৩. কেবলামুখী : নামাজের জন্য কেবলামুখী হওয়া আবশ্যক। সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কেবলা পবিত্র মক্কা নগরীর বাইতুল্লাহ।

৪. নিয়াত : নিয়াত হচ্ছে মনের সংকল্প। মুমিন যখন যে নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নেয়, তখনই সে নামাজের নিয়ত হয়ে যায়।

ইমামের নিয়তে হবে- ‘আনা ইমামু লিমান হাজারা ওয়া মাই ইয়াহজুরু।’ উপস্থিত এবং যারা জামাআতে শামিল হবেন আমি সবার ইমাম।
জামাআতে নামাজের ক্ষেত্রে মুক্তাদি বলবেন- ‘ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমাম’ আমি ইমামের ইকতিদা করছি।

৫. তাকবিরে তাহরিমা : যে তাকবিরের মাধ্যমে দুনিয়ার সব কর্মকাণ্ড মানুষের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সে তাকবির ‘আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। উভয় হাতকে কানের লতি বরাবর ওঠিয়ে নাভির ওপর হাত বাঁধা এবং চোখের দৃষ্টিকে সিজদার স্থানে স্থির রাখা।

৬. সানা পড়া : অনেকগুলো সানা রয়েছে তার মধ্য থেকে যে কোনো একটি পড়লেই চলবে। এটাকে দোয়া-ই ইস্তিফতাহও বলা হয়। এক নিয়তে একবারই পড়তে হয়।

৭. সুরা ফাতিহা পড়া : প্রথম রাকাআতে সানার পর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহর সহিত সূরা ফাতিহা পাঠ করা ও আমিন বলা।

৮. সুরা মিলানো : সুরা ফাতিহার পর কুরআন থেকে যে পরিমাণ সহজসাধ্য হয় পাঠ করবে। ন্যূনতম তিন আয়াত অথবা তিন আয়াতের সমকক্ষ এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা।

৭. রুকূ : সুরা মিলানোর পর আল্লাহু আকবার বলে রুকূতে যাওয়া। মাথাকে পিঠ সমান্তরালে রাখা। উভয় হাতের আঙ্গুল দিয়ে হাঁটুকে ধরবে। রুকূতে ইতমিনান বা স্থিরতা অবলম্বন করবে। তারপর কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়া

৮. রুকূ থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো : সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে রুকূ থেকে উঠে দাঁড়াবে। ইমাম বা একাকী উভয়ই দো’আটি পাঠ করবে।

৯. সিজদাহ : অতপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেয়ে সিজদার তাসবিহ পড়া।
উল্লেখ্য, সিজদার সময় হাতের আঙ্গুলগুলি মিলিত ও প্রসারিত হয়ে কিবলামুখী থাকবে। সিজদাহ্ হবে সাতটি অঙ্গের উপর। যেমন- নাক সহ কপাল, উভয় হাতের তালু, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলের ভিতরের অংশ। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়া।

১০. সিজদা থেকে উঠা : আল্লাহু আকবার বলে সিজদাহ থেকে মাথা উঠানো। বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসবে এবং ডান পা খাড়া করে রাখবে। দু’হাত তার উভয় রান ও হাঁটুর সংযোগস্থালের উপর রাখা। দুই সিজদার মধ্যে দোয়া পড়া। 

১১. দ্বিতীয় সিজদাহ : আল্লাহু আকবার প্রথম সিজদার ন্যায় দ্বিতীয় সিজদাহ করা। এভাবে দুই রাকাত পূর্ণ করা।
১২. তাশাহহুদ বা বৈঠক : দুই রাকাআত বিশিষ্ট নামাজ (ফজর, ঈদ ও জুমার নামাজ) পূর্ণ হওয়ার পর তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া পড়া। হাত উভয় রান ও হাঁটুর সংযোগস্থলের উপর রাখা। ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলি দিয়ে দোয়া ও আল্লাহর নাম উল্লেখ করার সময় তাওহিদের ইশারা করা। তিন বা চার রাকআত বিশিষ্ট নামাজে শুধু তাশাহহুদ পড়ার পড় আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে বাকি নামাজ আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া পড়ে নামাজ শেষ করা। 

প্রকাশ থাকে যে, ফরজ নামাজের বেলায় পরবর্তী এক বা দু’রাকাআতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে কোনো সুরা মিলানো লাগবে না। কিন্তু সুন্নাত নামাজের ক্ষেত্রে সুরা ফাতিহার সঙ্গে চার রাকাআতেই সুরা মিলাতে হবে।

১৩. সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করা :তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাছুরা পড়ার পর সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করা।

লক্ষ্যণীয় : পরিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে সানা, রুকু, সিজদা, তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়াগুলোর জন্য একটি ভাল মানের নামাজ শিক্ষা বই সংগ্রহ করুন।